উইকেটের পিছনে একটা অবিশ্বাস্য ক্যাচ, তাতেই ঘুরে গেল ম্যাচ। বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে মার্কো জানসেনের যে ক্যাচটা নেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ, তাতে ভর করে কার্যত হেরে যাওয়া ম্যাচে জিতল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। পাঁচ রানে হারিয়ে দিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে।
১৯ তম ওভারের প্রথম বলটা ষষ্ঠ স্টাম্পে রাখেন বৈভব অরোরা। ইনসুইঙিং ইয়র্কার করেন কেকেআরের পেসার। তাতে ড্রাইভ মারার চেষ্টা করেন জানসেন। উইকেটের পিছনে নিজের বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন গুরবাজ। বাঁ-হাতে সেই ক্যাচটা নেন আফগানিস্তানের তারকা। ক্যাচটা আরও স্পেশাল ছিল, কারণ সেইসময় প্রবল চাপে ছিল কেকেআর। আর জানসেন এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছিলেন যে প্রাথমিকভাবে বলটা গুরবাজের চোখের আড়ালে চলে গিয়েছিল। স্রেফ মাইক্রো সেকেন্ডের মধ্যে নিজের বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্ধর্ষভাবে বলটা তালুবন্দি করেন।
গুরবাজের ওই ক্যাচটার মাহাত্ম্য যে কতটা, তা নয় বলেই বোঝা যায়। কেকেআরের উইকেটকিপার যদি সেইসময় ক্যাচটা না ধরতে পারতেন, তাহলে ওটা কার্যত নিশ্চিত চার ছিল। আর চার হলে ১১ বলে সানরাইজার্সের ১৬ রান বাকি থাকত। চার না হলেও ক্রিজে থাকতেন জানসেন। যিনি যথেষ্ট ভালো খেলেন। অনায়াসে ম্যাচটা জিতে যেত সানরাইজার্স। কিন্তু জানসেন আউট হয়ে যাওয়ায় সানরাইজার্সের ব্যাটিং লাইন-আপে বাড়তি একটা আতঙ্ক তৈরি হয়। যে কাঁপুনির কারণেই শেষ আটটি বৈধ বলে ১০ রান বাকি থাকা সত্ত্বেও হেরে যায় সানরাইজার্স (শুরুটা ফ্রি-হিট দিয়ে হয়েছিল)।
এমনিতে বৃহস্পতিবার ব্যাটিংয়ে কোনও অবদান রাখতে পারেননি গুরবাজ। প্রথম বলেই আউট হয়ে যান। কিন্তু কেকেআরের হাত থেকে যখন ম্যাচটা বেরিয়ে যাচ্ছিল, তখন যেন গুরবাজ নাইটদের চাঙ্গা করে রেখেছিলেন। ফিল্ডারদের বাড়তি অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ করতে বাধ্য করছিলেন। বোলারদের পরামর্শ দিচ্ছিলেন। আর ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে নিজেই সামনে থেকে দেখিয়েছেন যে কী করা উচিত।

No comments:
Post a Comment